শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ০১:৪৮ এএম
অর্ধশতাব্দীর ব্যবধানে, দুই ঐতিহাসিক ৯ মাস—একটি স্বাধীনতার সংগ্রামে, আরেকটি স্বৈরাচার পতনের পরে। ইতিহাসের এই দোলাচলে প্রশ্ন উঠে আসে: ভিন্ন পরিস্থিতিতে, মাত্র ৯ মাসে একটি অন্তর্বর্তী সরকার কতটা কার্যকর হতে পারে?
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর, ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। আর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার—যার নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তবে তুলনাটি শুধু সময়ের নয়—তুলনা নিয়তের, দক্ষতার এবং সংকট মোকাবেলায় নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতির।
তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে প্রবাসী মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় একেবারে অস্তিত্ব সংকটের মুহূর্তে। যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত দেশের জন্য বিদেশি সমর্থন আদায়, এক কোটি শরণার্থীর আশ্রয়, গেরিলা প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালনা—সবই তাদের ঘাড়ে এসে পড়ে।
তাজউদ্দিন নিজে কোনো আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান নেতা ছিলেন না, ছিলেন সাধারণ মানুষ ও দলের জন্য নিবেদিত একজন কর্মী। অথচ এই সীমিত অভিজ্ঞতা ও সম্পদ নিয়েই ঐতিহাসিকভাবে তারা একটি পুরো জাতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন—দায়িত্বপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জনসমর্থন নিয়ে গঠিত হয় ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতায় আসার পর তাদের সামনে প্রধানত তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়:
স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর
একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন
তবে ৯ মাস পার হতেই সরকার প্রধান নিজেই পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন—কারণ, কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সহযোগিতার অভাব, প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন হলো: নেতৃত্ব মানেই কি কেবল পথ মসৃণ থাকলে এগিয়ে যাওয়া?
তাজউদ্দিনের সরকারের জন্য কাজের পরিধি ছিল বহুগুণ কঠিন। একটি চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অস্ত্র সংগ্রহ, খাদ্য-আশ্রয়ের ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি সামাল—সবকিছু মিলিয়ে পাহাড়সম কাজ। তবুও তাদের মধ্যে ছিল লক্ষ্যনিষ্ঠা, আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামী মানসিকতা।
অন্যদিকে, ইউনূস সরকারের প্রধান সমস্যা এসেছে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা এবং সংকটে নেতৃত্বের দৃঢ়তার অভাব। সুশাসনের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করলেও ৯ মাসে এসে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। অথচ তারা যুদ্ধ করছে না, আন্তর্জাতিক সাপোর্টও রয়েছে।
নেতৃত্বের মাঝে যদি আত্মবিশ্বাস না থাকে, তবে কাজের অগ্রগতি কীভাবে হবে?
ইতিহাসের কঠিনতম সময়েও যদি তাজউদ্দিন সরকার সফল হতে পারে, তবে আজকের তুলনামূলক সহজ সময়ে কেন এমন জটিলতা?
দায়িত্ব গ্রহণ মানেই কি চাপ পড়লেই সরে যাওয়ার মানসিকতা?
আসলেই কি “নিয়ত” আছে?
সেই ৯ মাসে মুজিবনগর সরকার অস্তিত্ব রক্ষা করে নতুন রাষ্ট্র গড়েছে। এই ৯ মাসে ইউনূস সরকার একটি নির্বাচনও দিতে পারেনি, অথচ পদত্যাগের কথা বলে ফেলে। পারিপার্শ্বিক ভিন্নতা থাকলেও মূল বিচার হচ্ছে—কারা ইতিহাসের চ্যালেঞ্জে নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছেন, আর কারা ভেঙে পড়েছেন পথেই?
সমস্যা থাকবে, বাধাও থাকবে। কিন্তু নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় সংকট মোকাবেলার সক্ষমতায়, শুধু অভিপ্রায় নয়—কাজে।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–কে কেন্দ্র করে রচিত... বিস্তারিত
শোক সংবাদআমার বড় চাচার ছোট ছেলে, রূপাতলী হাউ... বিস্তারিত
না ফেরার দেশে চলে গেছেন জনাব মরহুম ইস্কান্দার মজুমদারের কন্যা তৈয়বা মজুমদারের কন্যা এবং বাংলাদে... বিস্তারিত
খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে আসেন এমন এক সংকটময় সময়ে, যখন তার স্বামী ও দলের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপত... বিস্তারিত
পটুয়াখালীর ডিবুয়াপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। র... বিস্তারিত